প্রসঙ্গ:নির্বাচন-জনপ্রতিনিধি এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 7:51 PM, December 28, 2020

রানা চৌধুরী: দেশে চলছে নির্বাচনী হওয়া।চিরায়ত গ্রাম বাংলার রকমারী ঐতিহ্যের মধ্যে ভোট বা নির্বাচন হচ্ছে একটি অন্যতম ঐতিহ্য।স্থানীয় সরকারের অধীনে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হওয়ার অনেক আগে ভাগেই শুরু হয়েছে ভোটের মাঠে প্রার্থীদের তোর জোর।

স্থানীয় সরকারের অধীনে ইউপি, পৌর, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পরিবার, সমাজ,তথা দেশ জাতীর কল্যাণে যে সব প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গিকারের শ্লো-গান ভোটের ময়দানে দৃশ্যমান হয়ে উঠে এবং আম জনতাকে মূখরিত ও বিমহিত করে ঠিক জাতীয় নির্বাচনেও একই  বিষয়গুলি পরিলক্ষিত হয়।

ভোট এলেই সবায় সবার চরিত্র ফুলের মত পবিত্র বলে দবি করে, প্রত্যেক প্রার্থীই নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার তোলে, মাদক-সন্ত্রাস-ইভটিজিং-ধর্ষণ-দূর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়ার ধুম লেগে যায়। এর পর জনপ্রতিনিধি হয়ে ক্ষমতার নরম চেয়ারে বসার পর অনিকেরি নোংড়া, কুৎসিত জঘণ্য হিংস্র চেহারাটা ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বেরিয়ে আসে। তখন পরিবার,সমাজ থেকে শুরু করে এক সময় পুরো দেশটাকে মনে হয় যেন বহুমাত্রিক অপরাধে গ্রাস করে ফেলেছে।

জনপ্রতিনিধিরা তখন হয়ে উঠে জনগ্রাসী, ফলে সমাজ মাদক-সন্ত্রাস-ইভটিজিং-ধর্ষণ-দূর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধ মুক্ত হয় না বরং যুক্ত হয়।ফলোশ্রুতিতে এতিম অসহায় আর হতদরিদ্র মানুষের নিরাপত্তা-তো-দূরের কথা, মজার বিষয় হলো ওই সব মূখোশধারী, জনদরদী-জনপ্রতিনিধিরদের হাত থেকে-১০ টাকা কেজির চালও নিরাপদ নয়। কোন ব্যক্তি জনদরদী, জনপ্রতিনিধি  এবং প্রকৃত সমাজ সেবক হতে চাইলে তাকে প্রথমে প্রকৃত দেশ দরদ ও সত্যিকারের দেশ প্রেমিক হওয়া পূর্ব শর্ত।

বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধিদের কি রকমের অথবা কত প্রকারের গুনাবলী আছে তা জনগনই ভালো বলতে পারবে। তবে আমার জানা মতে একজন সাধারন নাগরীক যখন কোন বিষয়ের উপর ভালো-মন্দের নীরিখে অনিকের মধ্যে বুদ্ধি ও বিচক্ষনতার স্বাক্ষর বহন করে তখন সে নেতৃত্বে পা রাখে।পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি যখন জনকল্যাণের লক্ষ্যে, প্রগতিশীল ও বৈপ্লবিক সমাজ স্বংস্কারের চেতনাবোধের মধ্য দিয়ে স্থানীয়ভাবে স্থায়ী,অস্থায়ী এবং চলমান সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করে তখন সে জনপ্রতিনিধিত্ব করার মতো প্রাথমিক গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করে।

কোন এক সময় সে জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে চুড়ান্ত ম্যানডেট নিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে আত্ব প্রকাশ করে।সে ক্ষেত্রে তার শিক্ষাযোগ্যতার মাপকাঠি যেমনই হোক না কেন? সু-শিক্ষার মাধ্যমে আদর্শ নাগরীক হওয়া অতীব জরুরী। পাশা-পাশী স্বদেশ প্রেম,পবিত্র সংবিধানের প্রতি শ্রোদ্ধাশীল, নীতি-নৈতিকতা,শিশষ্টাচারসহ নানাবিধ মানবীয় গুনাবলী থাকাও আবশ্যক। এ সব না থাকার কারনে আজ দেশের সকল শ্রেণী পর্যায়ের প্রায় সকল জনপ্রতিনিধিরায় কম বেশী দূর্নীতি নিয়ে অধ্যায়নরত ফলে পরিবার,সমাজ,দেশ,জাতীর কল্যাণে ভাবার সময় কোথায় তাদের।

আর এ জন্য আজ আপনের মাঝে বিচ্ছেদ,পরিবার বিচ্ছিন্ন, সমাজ ঘুনেধরা, সু-শিক্ষার চরম সংকট, যুব সমাজ বিপদগামী,অপরাজনীতির দৌড়াত্ব,সু-শৃঙ্খল জায়গা বিশৃঙ্খলায় ভরপুর।এ সবের যাঁতাকলে পড়ে এক শ্রেণী নি:শেষ আর এক শ্রেণী আছেতো বেশ।তাই এ সব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।নির্বাচনে এলে সিজনাল ও মূখরোচক বোলচাল এবং মিথ্যে প্রতিশ্রুতি বন্ধ করতে হবে।

প্রকৃত দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে উঠে দল মত, জাতী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করতে পারলেই জনগন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে নিবে কোন প্রকার মিথ্যে আশ্রয়ের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

লেখক:সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।