প্রসঙ্গ: গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের রাজনীতি- চাকরীজিবীদের রাজনীতি ও সাংবাদিকতা নিষিদ্ধ প্রয়োজন

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 6:51 AM, January 15, 2021

রানা চৌধুর: প্রসঙ্গ: গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের রাজনীতি এবং চাকরীজিবীদের রাজনীতি ও সাংবাদিকতা নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। চলুন ফিরে যাই-৭১-রে যে লক্ষ ও উদ্দেশ্য কে সফলতায় পর্যবশিত করার লক্ষ্যে সু-দীর্ঘ নয় মাস আপোষহীন লড়াই আর সংগ্রামের বিভিশীখাময় রক্তেভীজা পথ-সীমাহীন নিষ্ঠুর আঘাতে ক্ষত বিক্ষত বুক-অগণীত আত্বাহুতি আর এদেশের সম্মানিত মা-বোনের কমল দেহে হায়নাদের বর্বরচিত পাশবিক নির্যাতনের বিনিময়ে যে,লাল-সবুজের পতাকা,এবং নিদৃষ্ট একটি ভূখণ্ড আমরা পেয়েছি এর নাম স্বধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

এই স্বধীন দেশের ভূখণ্ড পবিত্র রাখার পুর্ব শর্ত হলো গণতন্ত্র কে সু-প্রতিষ্ঠিত করা। সেই লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরত জনসাধারনের সামগ্রীক কল্যাণ সু-শৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন শ্রেণী পর্যায়ে নিয়োজিত আছে লোকবল কাঠামো যাদেরকে বলা হয় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের উপর অর্পিত দায়ীত্ব,সঠিক কর্মপরিকল্পনা যথা যথ বাস্তবায়ীত হচ্ছে কিনা? তা দেখভাল,জবাবদেহিতা,ওয়াকিফহাল
এবং নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রনয়নের জন্য গণতান্ত্রীক প্রক্রিয়ায় প্রতি ৫ বছর পর পর জাতীয় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নির্বাচিত হয়ে যে সমম্ত
জনপ্রতিনিধি পার্লামেন্টে আসেন এরা দেশের সর্বচ্চো জনপ্রতিনিধি।

তারা সংসদ এবং মন্ত্রী পরিষদ কে ঢেলে সাজান। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে দেশব্যাপী খেটে খাওয়া সাধারন মানুষের দোর গোঁড়ায় কাঙ্খিত নাগরীক সেবা পৌছানোর লক্ষ্যেও প্রস্তুত করা হয় স্থানীয় সরকারের একাধিক স্তর-
সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ,উপজেলা পরিষদ,পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ কে।এর পর সরকার প্রধান জনগনের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী পরিষদ কে নিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বের সর্ব নিম্ন স্তর ইউপি থেকে মহান জাতীয় সংসদ এবং
জনগনের সেবার জন্য নিয়োজিত (জন সেবার জন্যপ্রশাসন)উপজেলা প্রশাসন থেকে সচিবালয় পর্যন্ত এর মধ্যে যা কিছু আছে,সব কিছুর দেখভাল,
জবাবদেহীতা, নতুন নতুন জনবান্ধব ও গণউন্নয়নমূখী কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে পুরোদেশটায় নিয়ন্ত্রন করে থাকেন।

এ সব করতে গিয়ে অনেক সময়ই সরকার প্রধান,সরকারের মন্ত্রী পরিষদ এবং সাংসদসহ বিভিন্ন শ্রেণী পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিগনরা দেশ জাতীর কল্যাণের নামে জেনে বুঝে অথবা না জেনে ভূল করে ভূল সিদ্ধান্ত নেয়, নেয়ার চেষ্টা করে আবার কখনও কখনও জনগনের সম্পদ,রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট করে কালো টাকার পাহার গড়ে, নিজেদের আখের গোছাতে বহুমাত্রিক অন্যায় অপরাধ আর দূর্ণীতিতে তারা সাঁতার কাটে।

গণতন্ত্র তখন আর সঠিক জায়গায় থাকেনা ফলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী হয়।পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এবং
আমলাদের ব্যাবহার করে। জনপ্রতিনিধিদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারাও আদা জ্বল খেয়ে লেগে পড়ে এ দুয়ে মিলে দেশ দূর্ণীতির মহাৎসবে
পরিনত হয়। তখন দেশের কবি সাহিত্যিক,লেখক,সাংবাদিক-কলামিষ্ট,বুদ্ধিজীবিসহ দেশের বিবিন্ন সেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলো এ সব অন্যায়, অনিয়ম,দূর্ণীতি বা বহুমাত্রিক অপরাধের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা-টক-শো-মানবন্ধন,র‌্যালী- প্রতিবাদ সভা ইত্যাদীর মাধ্যমে সরকার কে সংশোধন হওয়ার পথ দেখায়-বিভিন্ন রকম দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সে সময় দেশের টানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মরিয়া হয়ে উঠে সচেতন সাংবাদিক মহল।

তাইতো দেশের বহুমাত্রিক অপরাধসহ যে কোন সংকটে,সংকট উত্তরণে ও অপরাধ নির্মূলে খুঁজতে থাকেন অপরাধগুলির সূত্র আর সংকটগুলির
কারন।বের করে আনেন সঠিক তথ্য,সমাধানের লক্ষ্যে লেখনির মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপন করেন গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখা প্রশাখায়। দেশের
সংকটকালে দেশের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ভূমিকা রাখেন একমাত্র দেশের গণমাধ্যমকর্মী তথা কলম সৈনিকেরা।

ফিরে আসি মূল কথায়,যা গটে চলেছে। যে সময় দেশের স্বার্থে,জনস্বার্থে,জাতীয় স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের সচেতন সাংবাদিক মহল,নাগরীক
সমাজ,বুদ্ধিজীবি এবং বিভিন্ন সচেতন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন এক যোগে কাজ করে যাচ্ছে।

ঠিক একই সময় এক শ্রেণীর সাংবাদিকগন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত তারা দলের স্বর্থে না কিছু বলতে পারে আর না কিছু লিখতে পারে। দল
বা দলের সাধারন নেতা কর্মী,উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী,এমপি বা কোন নেতা এমন কি সরকার প্রধানও যদি কোন অনিয়ম বা ভূল করে তবে জি
আচ্ছা,জি ঠিক আছে বলে নিজেরাও সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে যার মতো করে আখের গোছাতে ব্যস্ত।

অনুরুপভাবে যে সমস্ত চাকরীজীবি রাজনীতি করেন তারা দলের স্বর্থে মূখ খোলেন না বরং দলের উপরের অবস্থা দেখে তারাও নিজেদের ব্যবস্থা
করেনেন-তো বটেই পাশা-পাশী অফিসও ফাঁকী দেন ইচ্ছা মতো।

আবার অনেক চাকরীজীবি আছেন যারা সাংবাদিকতা এবং রাজনীতি দুটই করেন ফলে তার দল শত অন্যায়,অপরাধ,আর দূর্ণীতি করলে একদিকে যেমন কিছু বলবেন না তেমনি কিছু লিখবেন না। অন্য দিকে তিনি প্রতিষ্ঠানে বা কর্মস্থল ফাঁকী দিয়ে সাংবাদিকতা করে বেড়াবেন আর বসে বসে সরকারী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এটা রাষ্ট্রের কোন নীতির মধ্যে পড়ে প্রশ্ন জাতীর কাছে?

সুতরাং,যে দল-ই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকনা কেন? সাংবিধানিকভাবে জনগন যেহেতু সকল ক্ষমতার উৎস সেহেতু সকল ক্ষেত্রে জনসাধারনের
জবাবদেহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এটা নিশ্চিত হলেই জনগনের অধীকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর অধীকার প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রজাতন্ত্রের সকল
কর্মকর্তা-কর্মচারী কে নিরপেক্ষ হতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্রের সেবায় নিয়োজিত সকল সরকারী-বে-সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি এবং
সাংবাদিকতা আর সাংবাদিকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা অতীব জরুরী বলে ধারনা।

কেননা ক্ষমতার ভেতরে- বাইরে সকল রাজনীতিবিদরাই বলে থাকেন যে,ওনারা যা কিছু করেন তা সবি দেশ জাতীর জন্যই করে থাকেন। পাশা-
পাশী চাকরীজীবিরা বলে থাকেন যে, এনারা নাকি জন সেবার জন্যই নিয়োজিত,জন সেবার জন্যই প্রশাসন।বা:খুবি ভালো কথা এখন তাহলে আইন
করে এই নিয়ম মানতে-তো করো কোন আপত্তি থাকার কথা নয় তাইনা? প্রশ্ন রাজনীতিবিদদের কাছে।

আর সাংবাদিক মহল যেহেতু বুদ্ধিজীবি,সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সেহেতু এ প্রথা চালু হলে তাদেরতো নি:সন্দেহে কোন বালাই-ই নাই
এতটুকুন ছাড়তো তারা অবশ্যই দিবেন তাইনা? প্রশ্ন বুদ্ধিজীবিদের কাছে।

দেশ জাতীর বৃহত্তর স্বর্থে এবং প্রকৃত পক্ষে গণতন্ত্রকে সু-প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমি মনে করি উল্লেখিত বিষয়গুলিতে সবার এক মত হওয়া খুবি
দরকার কি বলেন সবায়।প্রশ্ন দেশবাসীর কাছে।

লেখকের পরবর্তী লেখা:নীতিহীন-রাজনীতি,দেখতে চোখ রাখুন(সিএনএনওয়ার্ল্ড২৪.কম)
লেখক:রানা চৌধুরী-সম্পাদক,(সিএনএনওয়ার্ল্ড২৪.কম)