কাঠমিস্ত্রির কাজ করেও প্রথম হলেন রাবি ভর্তি পরীক্ষায়

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক:  বাবা একজন কাঠমিস্ত্রি, অভাবের সংসারে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন মোস্তাকিম আলী। তবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একটি ইউনিটে প্রথম হয়েছেন তিনি। ‘বি’ ইউনিটের তৃতীয় শিফটে তিনি ৮০.৩০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন।

মোস্তাকিম, রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইর মিশনপাড়া এলাকার শামায়ুন আলীর ছেলে। তিনি এখনও তার বাবার সাথে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তবে ভর্তি পরীক্ষার ১৫ দিন আগে কাজ বন্ধ করে দেন তিনি। গত ১১ অক্টোবর মধ্যরাতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।এর পর থেকে হতদরিদ্র পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। মোস্তাকিমের মা জোসনা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোস্তাকিম সবার বড়। সংসারের অভাবের কারণে তার চাচা আজিজুল হক লেখাপড়া না করে বাবার সাথে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। ছোট বোন ফাহিমা খাতুন মু-মুমালা গার্লস হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। কাঠমিস্ত্রি শামায়ুন অনেক কষ্টে তার দুই সন্তানকে পড়াচ্ছেন।

মোস্তাকিম আলী বলেন, ভর্তি কোচিং বা বিশেষ প্রাইভেট পড়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। আমি অনলাইনে কিছু ভর্তি প্রস্তুতির লেকচার পেয়েছি। সেগুলো অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি করেছি। মোস্তাকিম উপজেলার মু-মুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে জেএসসি পাস করেন। ২০১৬ সালে একই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও এসএসসিতে জিপিএ-৪.৫৫ পেয়েছে। এরপর রাজশাহীর তানোর উপজেলার ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন মোস্তাকিম।

জিপিএ-৪.০৮ সহ ২০১৯ সালে এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি রাবি-তে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু পাস করেননি। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদিনা ফজলুল হক ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশা ছাড়েননি। সে জন্য তিনি ২০২০ সালে এইচএসসিতে মান উন্নয়ন পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৪.৮৩পেয়েছিলেন। এবার তিনি রাবি-এর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবার মধ্যে প্রথম হয়েছেন।

ছেলের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে বাবা শামায়ুন আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল মোস্তাকিমের। প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়ালেখা বন্ধ করেননি। নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাও তাঁর প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। তাদের সঠিক পথে শিক্ষিত করে এমন সাফল্য পেয়েছেন মোস্তাকিম। তার সাফল্যে আমি গর্বিত। তাই সবার কাছে দোয়া চাই।

ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীন বলেন, পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষকরা নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করছেন; তাই মোস্তাকিমের এই ফলটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।