উত্তরাঞ্চলের আড়াই হাজার কিলোমিটার  নৌ-পথ নাব্যতা সংকটে

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 12:58 PM, December 26, 2020

মো. আবুল কালাম আজাদঃ উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রধান নদ-নদীর  উজানের পানি সরিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রধান নদ-নদী, শাখা ও উপশাখাগুলো  মরা খালে পরিনত হয়েছে। এ অঞ্চলের আড়াই হাজার কিলোমিটার নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  ১৯ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার কোন কাজে আসছেনা।

নদীর সাথে  মিশে আছে মানুষের জীবন-জীবিকা এবং আত্মার অস্তিত্ব। জীবন ও জীববৈচিত্র বাঁচাতে হলে নদীকে বাঁচাতে হবে । বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়নের জোয়ারে দখল- দুষনের খপ্পরে  পড়ে খরস্রোতা নদ-নদীগুলি প্রসস্ততা এবং গভিরতা সঙ্কুিচত হয়ে উত্তরাঞ্চলের  আড়াই হাজার কিলোমিটার নৌপথ নব্যতা সঙ্কটে ভুগছে।  যার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের  নদী সংশ্ল্ষি্ট পেশায় জড়িত ১৯ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা  এবং জীববৈচিত্র বিপর্যেয়ের মুখে পড়েছে।

উত্তরাঞ্চলের  ১৬ জেলার বুক চিড়ে প্রবাহিত  হচ্ছে শতাধিক নদ-নদী। এই নদ-নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক  চলনবিল, হালতিবিল,বড়বিলাসহ অগনিত প্রকৃতিক জলাধার। ভরে উঠেছে  শষ্য শ্যামলীময়  সবুজে ঘেরা মাছ-পাখি আর খাদ্য ভান্ডার বলে খ্যাত আমাদের উত্তরাঞ্চল। বাংলাদেশের মানচিত্রে পদ্মা এবং যমুনা বিভাজন করেছে পর্বাঞ্চল-উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিনাঞ্চল তিন অংশে। বাংলাদেশের যতগুলি আন্তর্জাতিক নদ-নদী আছে তার বেশিরভাগ নদীই  প্রবাহিত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বুকচিড়ে।

উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রধান নদ-নদীর  উজানের পানি সরিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রধান নদ-নদী, শাখা ও উপশাখাগুলো  মরা খালে পরিনত হয়েছে। এ অঞ্চলের আড়াই হাজার কিলোমিটার নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  ১৯ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার কোন কাজে আসছেনা।

প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার নৌপথ নব্যতা হারিয়ে নৌযান চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। নদী থেকে উন্মুক্ত পানি দিয়ে সেচ কার্যক্রম  মারাত্মক হুমকির সম্মুখিন। একসময়ে এ অঞ্চলের  নদ-নদীতে জীবিকার সন্ধানে কর্মব্যস্ত থাকা ১৯ লাখ বিভিন্ন পেশার মানুষ বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেই  পুর্বপুরুষ বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তন করে ভিন্ন পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশের উজানে ভারত ফারাক্কা ও গজলডোবা ব্যরাজ নির্মান করে পদ্মা, তিস্তা, যমুনা, ব্রম্মপুত্রসহ বিভিন্ন  নদ-নদীর পানির প্রবাহ আটকে সেচক্যনালের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাবে  দেশের উত্তরাঞ্চলের শতাধিক প্রধান ,শাখা – প্রশাখা ও উপশাখা নদ-নদী নাব্যতা হারিয়ে নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই পানির অসংখ্য প্রাকৃতিক উৎস শুকিয়ে গেছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সেই সাথে বেড়ে যাচ্ছে আর্সেনিকের ঝুঁকির মাত্রা। উত্তরাঞ্চলের যেসব নদ-নদী এক সময়ে মানুষের বাঁচার অবলম্বন ছিল, তা এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। নদীমাতৃক উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পন্যসামগ্রী স্বল্প খরচে পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। নদ-নদীর নব্যতা হারিয়ে নৌপথ সংকুচিত হওয়ায় এখন মানুষের যাতায়াত ও পন্য পরিবহনে সড়কপথ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নদ-নদীতে প্রয়োজনিয় পানি না থাকায় জলজ প্রানি ও জলজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত হচ্ছে।ধংস হচ্ছে মিষ্টি পানির সুস্বাদু মাছের প্রজনন ক্ষেত্রসমুহ।

উত্তরাঞ্চলের এক সময়ের খরস্রোতা প্রধান নদীগুলি হচ্ছে- পদ্মা, যমুনা, তিস্তা, ব্রম্মপুত্র, মহানন্দা, বড়াল, নন্দকুঁজা, গুমানি, হুরারসাগর, ভদ্রাবতী,স্বরস্বতী, নারদ, বারনই, গুড়, ইছামতি, সুতাখালী,আত্রাই , করতোয়া, ফুলজোর, তুলসি, চেচুয়া, খলিশাডাঙ্গা,ভাদাই, চিকনাই,বানগঙ্গা, ঝরঝরিয়া, কাকন, মুক্তাহার,ককেশ্বরি,গোহালা, গাড়াদহ,স্বতী, ভটেস্বর, ধরলা, দুধকুমার, সানিয়াজান, ঘাঘট, ছোট যমুনা, নীলকুমার, বাঙ্গালি, বড়াই, মানষ, কুমলাই, সোনাভরা, হলহলিয়া, জিঞ্জিরাম, বুড়িতিস্তা,,যমুনেশ্বরী, টঙ্গান, কুমারি, ও রতনাই, পুনর্ভবা, ত্রিমোহনী, তালমা , ঢেপা, কুরুম, কুলফি,বালাম, ভেরসা, ঘোড়ামারা, মালদহ, চারালকাটা, পিছলা ,মুসাখাঁ এবং সন্ধ্যা নদীসহ  শতাধিক নদ-নদী আজ নব্যতা হারিয়ে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার নৌচলাচল প্রয় বন্ধ হয়ে গেছে।

উত্তরাঞ্চলে প্রবাহিত এসব নদ-নদী দিয়ে একসময়ে (আশির দশক পর্যন্ত) ষ্টিমার, কার্গো, লঞ্চ,বড় বড় পন্যবাহী কাঠের নৌকা, বজরা সারাবছরই চলাচল করতো। নদীর এপার থেকে ওপাড়ে পারাপারের জন্য ফেরি, খেয়া নৌকা সর্বক্ষন চলতো। খেয়াঘাটের ইজারাদার এবং মাঝিরা যাত্রী পারাপার করে প্রচুর আয় করে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতো। শুধু খেয়া নৌকাই নয়, এ অঞ্চলের মানুষ নৌপথে দুরপাল্লার গয়নার নৌকায় করে দুরদুরান্তে  যাতায়াত করতো।  এছাড়া যাত্রীবাহী নৌকায় করে মানুষ পন্য নিয়ে হাটে-বাজারে যাতায়ত করতো। সকালে, দুপুরে, রাতে  একাধিক গয়নার নৌকা নির্দিষ্ট ষ্টেশন থেকে ছেড়ে ঘাটে ঘাটে যাত্রী ওঠায়ে জেলা শহরে , বন্দরে, রেলষ্টেশনে পৌছে দিত। আবার ফিরতি যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে  ফিরে আসতো।

উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১৬ লাখ জেলে, জিওনী, হলদার ,স্বল্প আয়ের মৎসজীবিরা নদ-নদীতে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতেন। তারা এলাকায় মাছের চাহিদা মিটিয়ে অন্যজেলায় অতিরিক্ত মাছ রফতানি করতেন। কিন্তু সেইসব নদ-নদী নব্যতা হারিয়ে শুস্ক মওসুমে শুকিয়ে যাওয়ায় নৌকার মাঝি-মাল্লা ও জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। পেশাদার নৌকার মাঝি-মাল্লা এবং জেলে-মৎসজীবিদের মত  বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন লঞ্চ- ষ্টিমারের সারেং, সুকানি,লস্কর, মাষ্টার আর কেরানি। নদী সংশ্লিষ্ট পেশাদার এইসব মানুষ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

অভ্যন্তরিণ নৌপরবহন ( বিআইডব্লিউটিএ) দপ্তর সুত্রে জানা যায়, পদ্মা, যমুনা, তিস্তা, ব্রম্মপুত্র, বড়ার, গুমানি, নন্দকুজা, হুরাসাগর , ফুলজোড় ও করতোয়াসহ প্রধান নদীর বুকচিড়ে একসময়ে  লঞ্চ- ষ্টিমার  চলাচল করতো। গোয়ালন্দ থেকে ভারতের বিহারের পাটনা পর্যন্ত  যে ষ্টিমার চলাচল করতো, সেটা বাজিতপুর হয়ে যেত। অপরদিকে যমুনা নদী বেয়ে পাবনা জেলার বেড়ার নগরবাড়ি,ভারেঙ্গা, নাকালিয়া, স্থলচর, সিরাজগঞ্জ ও কালিগঞ্জ হয়ে  আসাম প্রদেশে চলে যেত। এই সার্ভিস ছিল নিয়মিত।

অপরদিকে বাজিতপুর ঘাট পশ্চিম বাংলার দিঘা পর্যন্ত ষ্টিমার যাতায়াত করতো। ঈশ্বরদীর সাঁড়াঘাট ও কুষ্টিয়ার মধ্যে যাতায়তকারী ষ্টিমার সার্ভিস ছিল নিয়মিত। ঢাকা- সিরাজগঞ্জ, ঢাকা- নগরবাড়ি- রাজশাহী,বেড়া-বড়ালব্রীজ-গুরুদাসপুর-সিংড়া- আত্রাই-নওগাঁ-পঞ্চগড় শুটকিগাছাসহ এ অঞ্চলে অসংখ্য রুটে নৌকা,ষ্টিমার, লঞ্চসহ বিভিনন নৌযান চলাচল করতো।

লঞ্চ চলাচল করতে ৯ থেকে ১০ ফুট গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের অভ্যন্তরীন নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায়  লঞ্চ চলাচল করতে পারেনা। যার ফলে লঞ্চ মালিক ও শ্রকিরা অন্য পেশা  বেছে নিয়েছে। যারা নৌকা চালিয়ে জীবন ধারণ করেছেন তারাও বিকল্প পেশায় চলে গেছেন।

এদিকে নদ-নদীর নব্যতা সঙ্কটে শুকিয়ে যাওয়ায়  উত্তরাঞ্চলের জেলে, জিওনী, হলদারসহ পেশাজীবি মৎস্য জীবিদেরও  চলছে চরম দুর্দিন। বছরের অধিকাংশ সময়ে নদী-নালা- খাল-বিল-জলাশয়ে পানি  না থাকায় এ পেশার মানুষ ও তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুঃখে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

পানিউন্নয়ন বোডের্র তথ্যসুত্রে জানা যায়, গঙ্গা, ব্রম্মপুত্র ও মেঘনাসহ ৫৪ টি আন্তর্জাতিক বা আন্তঃদেশীয় নদী বর্ষা মওসুমে উজান থেকে ভাটি অঞ্চলে পলি বয়ে আনে। গড়ে বাংলাদেশে প্রতি বছর উজান থেকে সাধারণ বা পরিমিত বৃষ্টিপাতের ফলে পলি আসে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কোটি টন। প্রকৃত পক্ষে উজান থেকে পলি আসার বিজ্ঞানভিত্তিক কোন উপাত্ত কারো কাছে নাই।  পাউবো সুত্র আরো জানায়, আধুনিক প্রযূক্তির সাহায্যে পলি আসার পরিমান নিরূপন করা প্রয়োজন। যদিও ব্যয়বহুল ,তবুও নৌপথের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান প্রধান নৌপথ  নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। তবেই নৌ পথগুলি সচল রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের উজানে অবস্থিত পানির উৎসগুলির প্রায় সব কয়টিতেই ভারত  বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মান করে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করছে। এসব নদ-নদীর মূল উৎস  প্রধানতঃ হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত। কিছু আছে অন্য পাহাড়ে। এসব মূল নদী,উপ-নদী ও শাখা নদীতে বঁাধ দেয়া হয়েছে। এর বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের নদীপথ ও পানির উৎসগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ এবং সেচ কার্যক্রম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ ও পানিউন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা  বলছেন, ভারতের অভিন্ন নদী পানি নিয়ন্ত্রন, অপরিকল্পিত নদী শাসন, উজানে বৃক্ষ নিধন, অতিরিক্ত ভূমি কর্ষন,নগরায়ন, শিল্পকারখান স্থাপন, বর্জ্যফেলা ও অতিবর্ষনে ভূমি ক্ষয় হচ্ছে নিরন্তর। সে কারণে বর্ষায় অতিরিক্ত পলি আসে। এই পলি সমুদ্রে যাওয়ার কথা থাকলেও উপ-সাগরীয় স্রোত এবং জোয়ার তা আবার  উজানে ঠেলে দেয়। জোয়ারের সময় পানি শান্ত থাকায়  এই পলি জমা হয় নদীতে। পানি নামার সময় স্রোতের বেগ তুলনামুলক কম থাকায় জমা পলি কেটে সমুদ্রে নিতে পারেনা।এ কারণে নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস পাচ্ছে।দিন দিন সঙ্কুচিত হচ্ছে নদীপথ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌপরিবহন ( বিআইডব্লিউটিএ)-র একটি সুত্রে  জানা  যায়,নেদারল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা ১৯৮৯ সালের জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন দেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নদী পথের সবটুকু ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। যদি ৬হাজার কিলোমিটার নদীপথ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় তাহলে দেশের অভ্যন্তরীন  নৌপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দুর্নিতি, রাজনৈতিক অসচ্ছতার কারণে সেটুকুও টিকিয়ে রাখতে পারেনি কোন সরকার।

নাটোর জেলার নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আত্হার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম মজিবুর রহমান মজনু বলেন , উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদীগুলির বিভিন্ন পয়েন্টে ভারত বাঁধ দিয়ে নদীর পানি প্রত্যাহার করায় শুকনা মওসুমে নদীতে পানি থাকেনা। পানি নাথাকায় নৌপথ এবং মৎস্যজীবিরা হুমকির মুখে পড়েছে। চলনবিল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতা আবুল কালাম আজাদ দুঃখ করে বলেন,বেড়ার হুরাসাগর থেকে পঞ্চগড় শুটকিগাছা পর্যন্ত  বড়াল-গুমানী- আত্রাই নদীর নব্যতা ফেরাতে বিআইডব্লিউটিএ নদী খননের কাজ করতে গিয়ে নদীর মধ্যেই মাটি ফেলে  প্রশস্ত নদীকে বানানো হয়েছে খাল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।বড়াল এবং চলনবিল রক্ষা আন্দোলনের নির্ভিক নেতা মিজানুর রহমান সহমত পোষন করে বলেন , আমাদের আন্দোলন ছিল সিএস রেকর্ডমুলে নদীর সীমানা জরিপ করে সিমানা পিলার পুতে দখলমুক্ত করা।

ড্রেজিং করে নদীর মাটি নদী থেকে দুরে ফেলতে হবে। কিন্ত হচ্ছে তার বিপরীত। এতে নদী খেকোদের নদী দখলের আরো সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। একে দুনর্ীতি ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?  ড্রেজিং এর নামে নদীর নাব্যতা এবং প্রশস্ততা  বৃদ্ধি না পেয়ে আরো হ্রাসপেয়ে খালে পরিনত করেছে। তিনি অবিলম্বে খননকৃত মাটি নদীর মধ্যে থেকে দুরে অপসারনের জোর দাবী জানান।

# মো. আবুল কালাম আজাদ # বার্তা সম্পাদক, দৈনিক দিবারাত্রী ও সভাপতি, চলনবিল পেসক্লাব, গুরুদাসপুর,নাটোর।