‘ভার্জিনিটি টেস্ট’ মানেই আরেকবার ধর্ষণ

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 8:14 PM, January 13, 2021

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানে ধর্ষণের শিকার বেশিরভাগ নারীরা সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে পুলিশে যান না। কারণ দেশে ধর্ষণের শিকারদের কুমারীত্ব পরীক্ষা প্রচলিত রয়েছে। তবে সম্প্রতি এটি লাহোরের একটি পাঞ্জাবের আদালত বাতিল করেছে। তবে এটি এখনও পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পাকিস্তানে ধর্ষণের শিকার নারীদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। ধর্ষণের ঘটনা সাধারণ ভাবে তদন্ত করা হয় না। বরং তদন্তের অংশ হিসাবে পুলিশ কুমারীত্ব পরীক্ষাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

যদি কোনও অবিবাহিত মহিলা এই পরীক্ষায় যৌন সক্রিয় হতে দেখা যায়, তবে ফৌজদারি মামলায় পরিস্থিতি তার জন্য জটিল হয়ে ওঠে। ওই নারী তখন সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়।

ভার্জিনিটি টেস্টে ধর্ষণের শিকার নারীরা সামাজিকভাবে হেয় হওয়ায় পাকিস্তানে ধর্ষণের শাস্তির হার খুব কম। মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবিরা বলছেন যে এই হার ০.৩ শতাংশ।

পাকিস্তানে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে তার বাবার এক আত্মীয় ধর্ষণ করেছিলেন।ধর্ষিত কিশোরীর বাবা-মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফলস্বরূপ, পুলিশ তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে তার ‘কুমারীত্ব পরীক্ষা’ করা হয়েছিল।

১৪ বছর বয়সী সাজিয়া (ছদ্মনাম) এএফপিকে বলেছেন, “পরীক্ষাটি খুব জঠিল ছিল। কেন জানি এ জাতীয় পরীক্ষা করা হচ্ছে তা আমি জানতাম না। মনে হচ্ছিল তখন যদি আমার মা আমার পাশে থাকতেন। ‘

ধর্ষনের শিকার সানজিদা বলেন, “আমাকে কেন পরীক্ষা করা হচ্ছে তা আমাকে আগে জানানো হয়নি,”। কেবল এটিই বলা হয়েছিল যে তাকে পুলিশি কাজে সহায়তার জন্য একজন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে।

তবে সব জটিল পরিস্থিতিতে সাজিয়ার বাবা-মা সামাজিক চাপের কারণে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডাব্লুএইচও) বলেছে যে ব্রাজিল এবং জিম্বাবুয়ে সহ বিশ্বের কমপক্ষে ২০ টি দেশে ভার্জিনিটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ধরনের পরীক্ষা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। এই পরীক্ষার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কিশোর-কিশোরী এবং ধর্ষণের অভিযোগ করতে আসা নারীদের এই জাতীয় পরীক্ষা করতে বাধ্য করে।

যৌন হয়রানির ঘটনা নিয়ে কাজ করেন মানবাধিকারকর্মী সিদরা হুমায়ূন। তিনি এএফপিকে জানান, ‘আমি মনে ভার্জিনিটি টেস্ট মানেই আরেকবার ধর্ষণের শিকার ‘। ধর্ষণের শিকার বেশিরভাগ নারী এ ধরনের পরীক্ষা নিয়ে তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।

আদালতের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, টু ফিঙ্গার টেস্টের মাধ্যমে ভার্জিনিটি টেস্টে ধর্ষণের শিকার নারীরা যৌনভাবে সক্রিয় প্রমাণ হলে তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। এ রকম রয়েছে অনেক ঘটনা।