তারেকের কাছে অর্থ পাচার সিলেট থেকে

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১

রাজনীতি ডেস্ক: তারেকের কাছে বিপুল পরিমান অর্থ পাচার হয়েছে  সিলেট থেকে। ২১-আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক জিয়া লন্ডনে বসে আছেন দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে। আর উপার্জন না করেও সেখানে তার চোখ-ধাঁধানো বিলাসী জীবন।

এ অর্থের উৎস কোথায়? দেশ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ পাচার হচ্ছে তারেকের কাছে এমটায় অনুসন্ধান বলছে। আর বিশেষ করে বেশির ভাগ অর্থই যাচ্ছে সিলেট থেকে। এ ছাড়া লন্ডনে অবস্থানরত সিলেটি রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসা থেকেও পাচ্ছেন টাকা।

সূত্র বলছেন, লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী ’বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অর্থ সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধেও তদন্তে নামছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। আর শিগগিরই বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-দুর্নীতি দমন কমিশন- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও আলাদা-আলাদাভাবে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছেন, এর মধ্যে লন্ডনে বাঙালি রেস্টুরেন্টের মালিক এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত  তাদের আত্মীয়-স্বজনেরও বিষয়ে বিশেষভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অর্থ সরবরাহের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব তলব এবং জব্দ করা হবে বলেও জানা গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনে বিভিন্ন বাঙালি রেস্টুরেন্টের মালিকরা তাকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। আর তাঁদের মধ্যে বেশিসংখ্যক ব্যবসায়ীর বাড়িই আবার সিলেটে। সিলেটি এসব ব্যবসায়ী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমেও বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার  হচ্ছে লন্ডনে তারেক  কাছে।

বিভিন্ন সংস্থার একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘তারেক রহমান আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার অর্থের জোগানদাতা এবং পাচারকারীদের পুরো চেইন নিয়ে আমরা এবার কাজ করব। দেশে- বিদেশে বসে যারা টাকা পাচার করছেন ও তারেককে  টাকা দিচ্ছেন, পুরো চক্রকেই আইনের আওতায় এবার আনা হবে। ’

তারা বলেন, ‘সিলেটভিত্তিক লন্ডনে রেস্টুরেন্ট ও অন্য ব্যবসায়ীদের নথিপত্র  নিয়ে কাজ শুরু করব। বাংলাদেশে তাদের আত্মীয়-স্বজন নজরদারিতে থাকবেন। কারণ বাংলাদেশ থেকে তারেক রহমানকে যারা টাকা পাঠান তারা ওই সব ব্যবসায়ীর বাংলাদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনের কাছে টাকা পৌঁছে দেন। সেই টাকা পরে হয় লন্ডন থেকে ওই ব্যবসায়ী তারেক রহমানকে দিয়ে দেন, নতুবা কৌশলে দেশ থেকে পাচার করেন । দ্রুতই উন্মোচন হবে তারেক জিয়ার অবৈধ অর্থের জোগানদাতাদের পুরো চেইন আর  জড়িতদের ব্যাংক হিসাব জব্দসহ আইনের আওতায় আনব আমরা। ’

এর আগে তারেকের অন্যতম অর্থদাতা হিসেবে বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়ালের নাম আসে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

দুদক সূত্র জানান, তাবিথের পর অন্তত আরও-১০ জন ব্যবসায়ী আছেন, যাদের বিরুদ্ধে লন্ডনে অবৈধ অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এর মধ্যে বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর বাড়িই সিলেটে।

প্রসঙ্গত,লন্ডনে পলাতক তারেক রহমান-২০১৮ সাল থেকে পরিবার নিয়ে উচ্চাভিলাষী জীবন যাপন করছেন। যদিও কোনো কিছুই তিনি করেন না সেখানে। তার ও পরিবারের উচ্চাভিলাষী জীবনের যাবতীয় অর্থের জোগান দিচ্ছে কোন একটি চক্র।