চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের অবসান

CNNWorld24
CNNWorld24 Dhaka
প্রকাশিত: 7:31 AM, December 12, 2020

লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ ময়দানে জানাজার পরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, প্রাক্তন মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফকে দাফন করা হয়েছে। জুম্মার পর শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) ফরিদপুরের কমলাপুরের ময়েজ মঞ্জিলের পিতা চৌধুরী ইউসুফ আলী মোহন মিয়ার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

শেষবারের জন্য, লোকেরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছিল। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মরদেহ ময়েজ মঞ্জিল থেকে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বেলা সোয়া ২ টার দিকে বরফ গাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ফরিদপুর ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জানাজায় অংশ নিতে আসে। চকবাজার জামে মসজিদের খতিব ও সামসুল উলূম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে বেলা তিনটার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিয় নেতার দাফনে অংশ নিতে আসা লোকজনের মিছিল চলাকালীন তিল ঠাই এর জায়গাও ছিল না। রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ থেকে নিকটবর্তী ফরিদপুর শেখ জামাল স্টেডিয়াম পর্যন্ত লোকজনের ভিড় ছিল। জানাযার আগে পরিবারের পক্ষে প্রয়াত জ্যেষ্ঠ কন্যা চৌধুরী নয়াব ইবনে ইউসুফ একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুরে বাহাদুরপুর দরবার শরীফের প্রতিনিধি হাফিজ মাওলানা মোহাম্মদ হাঞ্জেলা, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্গিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী বিভাগের সাংগঠনিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইসলাম বাবুল, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সুলতানা আহমেদ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মোদারেস আলী, অধ্যাপক এ বি এম সাত্তার, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুত তওয়াব ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। সহ-রাষ্ট্রপতি মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু।

শেখ ফরিদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সেক্রেটারি প্রফেসর আবদুস সামাদের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বৃহস্পতিবার (১০ডিসেম্বর) রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রবীণ এই বিএনপি নেতা। এদিনের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলীয় নেতারা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরের দিন বৃহস্পতিবার ফরিদপুর পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াত জ্যেষ্ঠ কন্যা চৌধুরী নয়াব ইউসুফ ওই নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন। তাই একদিন তাঁর মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছিল।

১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ যোগ দেন। ১৯৮৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সরকারের মন্ত্রী হন। তিনি ১৯৯১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করলেও তার দল বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে হেরে যায়। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনেও জিতেছিলেন, তারপরে খাদ্য ও দুর্যোগ পরিচালনার মন্ত্রী হন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি তার আসনটি হেরেছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ১৯৩০ সালের ২৩ শে এপ্রিল ফরিদপুর জেলার বাঙালি জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কামাল ইউসুফের বাবা ছিলেন জমিদার চৌধুরী মইজুদ্দিন বিভাস। তাঁর পিতা ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া) ব্রিটিশ শাসনামলে বিশিষ্ট মুসলিম লীগ নেতা ছিলেন। তার চাচা চৌধুরী আবদুল্লাহ জহিরুদ্দিন (লাল মিয়া) রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং অপর চাচা এনায়েত হোসেন চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ সদস্য।