দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে: জিএম কাদের

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২২

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনকে অসহায় ও দুর্বল মনে হচ্ছে। নির্বাচনের নামে দেশে হত্যা চলছে। এই ব্যর্থতার দায় নির্বাচন কমিশনের এড়ানোর উপায় নেই।

তিনি বলেন, দেশের জনগণের একাংশ বললেও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, তা বিবেচনায় নিতে হবে। প্রয়োজনে ভোটের ফল প্রকাশ করবে না নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন পুনঃনির্বাচনের আয়োজন করতে পারে। আর তাতেও কাজ না হলে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ করা উচিত।

সোমবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে পরপর চারবার দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। আবারও বিএনপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। আর নির্বাচনী ডাকাতি করে কে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তা দেশের মানুষ জানে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ কোনোভাবেই এগিয়ে যেতে পারবে না।

তিনি বলেন, সংবিধানের চারটি মূলনীতির একটি মাত্র ধর্মনিরপেক্ষতা। দেশে গণতন্ত্র নেই তাই জনগণের অধিকার নেই। গণতন্ত্র ছাড়া জবাবদিহিতা নেই। আমরা সমাজতন্ত্র পরিত্যাগ করে মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করেছি। আর সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থে সমাজতন্ত্র নেই।

হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদ, কোথাও কোনো পরিচয় নেই। বিদেশী সংস্কৃতি আমাদের আক্রমণ করছে। দেশে শুধু ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করে সকল ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ অসহনীয় কষ্টে আছে। বেকারত্ব বেড়েছে কোটিতে, মানুষের আয় নেই। কিন্তু পণ্যের দাম বাড়তে থাকে।

উন্নত জীবনের আশায় প্রতি বছর শত শত বেকার মানুষ পাহাড়, সাগর ও মরুভূমি পাড়ি দিচ্ছে। তারা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যেতে চান, অনেকে মারা যাচ্ছেন। শিক্ষিত বেকাররা ফেরিওয়ালা, অটোরিকশা চালায়। দেশ তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। মানুষ সংসার চালাতে পারে না, অনেকে মাত্র দশ টাকায় ওষুধ কিনতে পারে না।

আর কিছু লোকের টাকা রাখার জায়গা নেই। তারা বেনামে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে। মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন দেশের জন্য যুদ্ধ করেননি। এমন দেশের জন্য বীর শহীদরা প্রাণ দেননি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ এমন নিপীড়নমূলক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। দেশের মানুষ জানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষকে মুক্ত করতে পারবে না। তাই তারা আশার আলো নিয়ে তাকিয়ে আছেন জাতীয় দলের দিকে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে দেশে কখনো গণতন্ত্র আসেনি। তবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে দেশের মানুষ অনেক বেশি গণতন্ত্র ও সুশাসন উপভোগ করেছে। জাতীয় পার্টির আমলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি ছিল না।

পল্লীবন্ধুর সময়ে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি, জাতীয় পার্টির আমলে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়নি। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য রাজনীতি করছি।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম পাঠানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো: ইলিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সিরাজুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ সেলিম, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোঃ শামসুল হক, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. নাসির উদ্দিন সরকার, আনোয়ার হোসেন তোতা, মো: আনিস উর রহমান খোকন, কাজী আবুল খায়ের, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুলতান মাহমুদ, এম এ রাজ্জাক খান প্রমুখ।