সূরা আল ফাতেহার ফজিলত

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২১

রানা চৌধুরী

সূরা আল ফাতেহা পবিত্র আল কোরআনুল কারিমের প্রথম সূরা। এ সুরাতে আয়াতের সংখ্যা সাতটি। সুরাটি অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায় । এ সুরার প্রথম তিনটি আয়াত মহান আল্লাহতায়ালার প্রশংসা এবং শেষের তিন আয়াত মানুষের পক্ষ হতে আল্লাহপাকের নিকট প্রার্থনা ও দরখাস্তের বিষয়বস্তুর সংমিশ্রণ রয়েছে। মাঝের একটি আয়াত প্রশংসা ও দোয়ার মিশ্রিন। এ সূরা দ্বারা চিরতরে আল্লাহপাক ছাড়া অন্য কারও ইবাদত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‘ফাতিহা’ শব্দের শাব্দীক অর্থ আরম্ভ,শুরু, উদ্বোধন, উদঘাটন ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনুল কারিমের-১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটিই হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্যই সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন, বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়েছে । সূরা ফাতিহাকে সূরাতুল হামদ-উম্মুল কুরআন,আসসাবউল মাছানি-ওয়াকিয়াহ-সূরাতুল কাফিয়্যাহ- সূরাতুল কানয- সূরাতুশ শিফা এবং সূরাতুল আসাস নামেও অভিহিত করা হয়।

সূরা ফাতিহার ফজিলত: সূরা ফাতিহার ফজিলতের  কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। ‘খাজিনাতুল আসরার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করে ফরজ নামাজ আদায়ের পূর্বে যদি কেউ বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকলেও সন্তান হবে- বেকার থাকলে চাকরি হবে- আর ঋণ গ্রস্ত থাকলে তার ঋণ পরিশোধের উপায়ও হয়ে যাবে- সম্পদহীন থাকলে সম্পদ লাভ হবে-অসুস্থ থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে এবং বিপদাপন্ন হলে,বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে যাবে’।

হজরত আলী (রা:)  বলেছেন, কোনো বিপদে পতিত ব্যক্তি ১ হাজার বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ওই ব্যক্তির আর বিপদ থাকতে পারে না। হজরত ইমাম জাফর সাদেক (রা:) বলেছেন, ‘৪১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে ওই পানি পান করালে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে। (তাওয়ারিখে মদিনা)।

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, একবার এক সফরে আমাদের এক সাথী জনৈক গোত্রপতিকে শুধু সূরা আল ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন এবং তিনি সুস্থ হয়ে যান (বুখারী শরীফ) :৫৪০৫। এটা দেখে রাসূল (সা:) তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তা তুমি কেমন করে জানলে? এটা যে রকিয়্যাহ (অর্থাৎ পড়ে ফুঁ দেয়ার সূরা) (তাফসীরে ইবনে কাসীর)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূল (সা:) ফরমায়েছেন, তোমরা সূরা ফাতেহা পড়। কোনো বান্দা যখন বলে আলহামদুলিল্লাহি রাবি্বল আলামিন, তখন মহান আল্লাহপাক সুবহানাহু তায়ালা  বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছেন। যখন আমার বান্দা বলে, আররাহমানির রাহিম,তখন মহান আল্লাহপাক বলেন, আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে। আর বান্দা যখন বলে, মালিকি ইয়াওমিদ্দীন,তখন মহান আল্লাহপাক বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছে। আর যখন বান্দা বলে, ইয়্যাকানাবুদু ওয় ইয়্যা কানাস্তাইন, তখন মহান আল্লাহপাক বলেন, এ হচ্ছে আমার ও আমার বান্দার মাঝে কথা। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে যা সে চায়। যখন বান্দা বলে, ইহদিনাস সিরাতল মুস্তাকিম…শেষ পর্যন্ত। তখন মহান আল্লাহপাক বলেন, এসব হচ্ছে আমার বান্দার জন্য, তাই রয়েছে, যা সে চায় (মুসলিম শরীফ) :৩৯৫।

এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনের একটি হরফ বুঝে পাঠ করলে ১০টি নেকি বা ছোয়াব লাভ হয়। সূরা আল ফাতিহায়-১২৫টি হরফ রয়েছে। এই ১২৫-টি হরফ যিনি পাঠ করবেন তার আমল নামায়-১২৫০টি নেকি দান করা হয়।মহান রাব্বুল আলামিন সকলকেই এটি আমল করার তৌওফিক দান করুন আমিন