বি্সমিল্লাহির রা্হমানির রাহীম’র ফজিলত

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১

রানা চৌধুরী,

বি্সমিল্লাহির রা্হমানির রাহীম একটি এরাবিক বাক্য বা শব্দ, এর শাব্দীক অর্থ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। যেটিকে আমরা সাধরনত সংক্ষেপে  বিসমিল্লাহ্‌ বলে থাকি। পবিত্র কোরআনুল কারিমে- ১১৪টি সূরার মধ্যে সূরা তওবা ব্যতিত বাকি -১১৩টি সূরা শুরু করা হয়েছে “বি্সমিল্লাহির রা্হমানির রাহীম” দিয়ে।

এছাড়াও হাদীস শরীফ থেকে জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রতিটি কাজ শুরুর  আগে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’বলেই শুরু তিনি করতেন।

আর এ জন্যই আল্লাহর নাম অর্থাৎ বি্সমিল্লাহ বলেই সব কাজ শুরু করা উচিত। কারণ হল আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতিত আমাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। তাই আমরা একমাত্র তাঁর দয়া,অনুগ্রহ আর অনুকম্পাতেই আমরা বেঁচে আছি। আর এ অনুগ্রহ,অনুকম্পা এবং দয়া লাভের জন্য তিনি দিয়েছেন পবিত্র এই বাণী, ‘বি্সমিল্লাহির রা্হমানির রাহীম’।

তাফসিরে-ইবনে আবি হাতিমে বর্ণিত আছে, ‘উসমান বিন আফফান (রা:) রাসূলুল্লাহ (সা:)কে ‘বিসমিল্লাহ’সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আর তিনি উত্তরে বলেছিলেন, এতো আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পবিত্র নাম।

আল্লাহর বড় নাম এবং এই বিসমিল্লা’র মধ্যে এতটাই নৈকট্য রয়েছে যেমন রয়েছে চুল কালো অংশ এবং সাদা অংশের মধ্যে। ইবনে মরদুওয়াইর তাফসিরে রয়েছে, ‘রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, আমার ওপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যার মতো আয়াত হজরত সোলাইমান (আ:)ছাড়া অন্য কোনো নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়নি। আর এ আয়াতটি হলো, ‘বি্সমিল্লাহির রা্হমানির রাহীম’।

হজরত জাবির (রা:) বর্ণনা করেন, যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন পূর্ব দিকের বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়-বায়ুমণ্ডল স্তব্ধ হয়ে যায়-তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ সমুদ্র প্রশান্ত হয়ে যায়-জন্তুগুলো কান নাড়িয়ে শয়তানকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্ব প্রভু স্বীয় সম্মান এবং মর্যাদার কসম করে বলেন, ‘যে জিনিসের ওপর আমার এ নাম নেয়া যাবে তাতে অবশ্যই বরকত হবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

বি্সমিল্লাহ দিয়েই সব কাজ শুরু করতে হয়। কাজ ও কথার শুরুতেই বি্সমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব। হাদিস শরীফে এসেছে, যে কাজ বি্সমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা না হয় তা কল্যাণহীন ও বরকতশূন্য বা বরকতময় হয় না। বি্সমিল্লাহ দিয়ে শুরু করলে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে করুণা করেন, হেফাজতে রাখেন এবং কাজে বরকত দান করেন। এ বাক্যের মাধ্যমে যে কোন ধরনের  কর্ম বা কাজ শুরু করলে শয়তানের অসওয়াসা বা শয়তানের শয়তানি থেকে মুক্ত থাকা যায়। এ জন্য আমাদের সকলের জন্যই বি্সমিল্লাহ হোক সকল কাজের সূচনাধ্বনি।

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে এটা আমল করার তৌওফিক দান করুন(আমিন)।