-বি্সমিল্লাহ’র বিস্ময়কর প্রভাব-

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

রানা চৌধুরী,

‘বি্সমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পবিত্র কোরআনুল কারিমের একটি বরকতময় বাক্য। আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম সংবলিত এ বাক্যটি সুরা তাওবা ব্যতিত পবিত্র কোরআন শরীফের সব সুরার শুরুতেই আছে। তা ছাড়া কোরআন শরীফে এটি স্বতন্ত্র আয়াত। প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতেই এ বাক্যটি উচ্চারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি এমন ফজিলতপূর্ণ একটি আয়াত, যা পাঠ করার মাধ্যমে ওই কাজে বরকত ও পরিপূর্ণতা আসে।

হাদিস শরীফে এসেছে, রাসুল (সা:) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ,যার শুরুতে –বিসমিল্লাহ- পড়া হয়নি তা অসম্পূর্ণই থেকে যায়। (মুসনাদে আহমাদ-১৪/৩২৯)

সে কারনে কল্যাণ ও পূর্ণতার জন্যই মুমিনের প্রতিটি ভালো কাজের প্রারম্ভিক বা শুরুর আমল-ই এই বিসমিল্লাহ হওয়া উচিত। মূলত এই আমলের মাধ্যমে মুমিন বান্দা তার কাজের বিষয়ে আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে থাকেন।

-বিসমিল্লাহ’র প্রভাব:বি্সমিল্লাহ একটি শক্তিশালী আমল। এ আমলের মাধ্যমে শয়তানের কার্মক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। অকল্যাণ ও অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হযরত আবু মুলাইহ থেকে বর্ণিত,তিনি একজন সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার নবী করিম (সা:)-এর সাথে তাঁর আরোহীর পেছনে বসা ছিলাম। এমন সময় আরোহী পা ফসকে পড়ে গেলেন। তখন আমি বললাম, শয়তান ধ্বংস হোক। নবী করিম (সা:) বললেন,‘শয়তান ধ্বংস হোক এরূপ বোলো না, কেননা এতে সে নিজেকে খুব বড় মনে করে আর বলে আমার নিজ শক্তি দ্বারা এ কাজ করেছি, বরং এরূপ মুহূর্তে বলবে ‘বিসমিল্লাহ’। এতে সে অতি ক্ষুদ্র হয়ে যাবে, এমনকি মাছিসদৃশ্য হয়ে যায়। (মুসনাদে আহমাদ,হাদিস: ১৯৭৮২)।

খানা খাওয়াসহ যেকোনো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া হলে সে কাজে শয়তানের অংশীদারি থাকে না। রাসুল (সা:) এরশাদ করেছেন, ‘যে খাবারে বি্সমিল্লাহ পড়া হয় না, সে খাবারে শয়তানের অংশ থাকে। সে খাবার মানুষের সাথে শয়তানও ভক্ষণ করে। (মুসলিম  হাদিস: ৫৩৭৬)

অপর একটি হাদিসে এসেছে ‘শয়তান সে খাদ্যকে নিজের জন্য হালাল করে নেয়, যে খাদ্যের ওপর বি্সমিল্লাহ বলা হয় না। (মুসলিম হাদিস:২০১৭)

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা:)-এর কাছে প্রথম ওহি নাজিলের সময়ও এ উত্তম বাক্য পড়ানো হয়েছিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, ‘জিবরাঈল (আ:) সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সা:)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তা হচ্ছে জিবরাঈল (আ:) বলেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আশ্রয় চান। মুহাম্মদ (সা:) বলেন, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর জিবরাঈল (আ:) বলেন, হে নবী! আপনি বলুন, ‘বি্সমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।’ (তাফসির ইবনে কাসির:পৃষ্ঠা-২৬৩)

‘বিসমিল্লাহ’র মর্যাদা রক্ষা: দাওয়াতনামা-পোস্টার ও ব্যানার- যা নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো প্রয়োজন হয় না, আবার প্রয়োজন শেষে পথে-ঘাটে এবং নর্দমায় পড়ে থাকে, কিন্তু বর্তমানে বরকত লাভের আশায় সেগুলোতেই আমরা বি্সমিল্লাহ লিখে এর অমর্যাদা করছি। মনে রাখতে হবে যে,বি্সমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পবিত্র কোরআন পাকের একটি মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। কোরআন শরীফের অন্য আয়াতের মতোই এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা অপরিহার্য। তাই এসব ক্ষেত্রে বি্সমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আরবী অথবা বাংলা কোনোভাবেই লেখা উচিত নয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া:৫/৩২৩)

চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছু লেখার শুরুতেই বি্সমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা সুন্নাত। কিন্তু অনেকেই বি্সমিল্লাহর পরিবর্তে ৭৮৬ লিখে থাকেন। এটা জায়েজ নয়। এতে বি্সমিল্লাহ’র বরকত ও ফজিলত কিছুই পাওয়া যাবে না। এ রীতি পরিহার করা উচিত। কারো কারো ‘বিসমিহি তাআলা’লেখার অভ্যাস আছে। এতে আল্লাহর নাম স্মরণ করার সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’লেখার  স্বতন্ত্র সুন্নাত আদায় হবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/২৪, ফাতাওয়া উছমানি-১/১৬৩)। মূলকথা লিফলেট-পোস্টার বা কোনো ধরনের কাগজের টুকরো-যেগুলো সাধারণত সংরক্ষণ করা হয় না সে সব কাগজে ‘বিসমিল্লাহ’না লিখে বরং তা আরম্ভ করার সময় শুধু মুখে ‘বিসমিল্লাহ’পাঠ করে নিলেই এর ফজিলত ও বরকত পাওয়া যাবে। (শরহু মুসলিম নববি:২/৯৮)

বরকতময় আয়াত ‘বিসমিল্লাহ’র মর্যাদা রক্ষার পাশা-পাশি আল্লাহ সুব্হানাহু তায়ালা আমাদেরকে আমাদের প্রত্যেক ভালো কাজের শুরুতেই বি্সমিল্লাহ বলার তাওফিক দান করুন।(আমিন)