বাচ্চাদের বড় করার উপায়

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২১

ইসলাম ডেস্ক:সন্তান আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। পবিত্র কোরানে তাদের জীবনের ঐশ্বর্যের কথা বলা হয়েছে।

শৈশব থেকেই তাদের সুশিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলা গেলে মৃত্যুর পরও এর সুফল পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন প্রকার আমল চলতে থাকে।
এক. সাদাকায়ে জারিয়া (চলমান পুণ্য। দুই। সেই জ্ঞান যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়। তিন। সুসান্ত, যে তার জন্য প্রার্থনা করে।”
অন্য কথায়, একটি ভাল সন্তান পিতামাতার সেরা অর্জনগুলির মধ্যে একটি। তবে সন্তানকে ভালো সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথম থেকেই অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিম্নলিখিত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:

নিষ্পাপ পরিবেশ

শিশুদের ভালো সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শৈশব থেকেই তাদের যত্ন নিতে হবে। তার মানসিক বিকাশে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তার জন্য পাপমুক্ত পবিত্র পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি শিশু যখন বড় হয়, তখন পরিবেশ তাকে অনেক প্রভাবিত করে এবং এটি তার বেড়ে ওঠার মধ্যে প্রতিফলিত হয়। শিশুর সার্বিক বিকাশের সাথে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তাদের সামনে কোনো ধরনের অভদ্র কথা ও কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা শেখাচ্ছে

ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি একজন ব্যক্তির মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নবী করীম (সঃ) পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ বলেছেন।

পাশাপাশি শিশুদের পরিপাটি রাখার চেষ্টা করছেন। তরুণরা বলে যে তাদের মতো করে গড়ে তোলা উচিত নয়। কারণ এটি ব্যক্তিত্ব গঠনেও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দিনের এক অংশে বের হয়েছিলেন, তিনি আমার সাথে কথা বলেননি এবং আমিও তার সাথে কথা বলিনি। হয় অবশেষে তিনি বনু কাইনুকা বাজারে (সেখান থেকে ফিরে) এসে ফাতেমার বাড়ির উঠানে বসলেন। তারপর বললেন, এখানে কি খোকা [হাসান (রা)] আছে? এখানে কি বাচ্চা আছে? ফাতেমা (রা.) তাকে কিছু সময় দেন। আমার অনুমান হল যে শিশুরা যে সোনা ও রৌপ্য পরিধান করত তা ব্যতীত তিনি পুঁতিগুলি পরেছিলেন (সজ্জিত)। তারপর দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন। তারপর বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে (হাসান) ভালবাস এবং যে তাকে ভালবাসে তাকে ভালবাস। (বুখারি, হাদিস: ২১২২)

সৃজনশীল খেলনা

শিশুর খেলনা উদ্ভাবক এবং সৃজনশীল হতে হবে। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপযোগী খেলনা বেছে নেওয়া জরুরি। ঘরের ভিতরে এবং বাইরে উভয় জায়গায় খেলা যায় এমন খেলনাগুলি শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য আরও সহায়ক। শিশুকে এমন খেলনা দিতে হবে যা তাকে তার বুদ্ধি বিকাশে সাহায্য করে। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এমন খেলনা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যা হারাম।

ভিডিও গেম এবং কার্টুন থেকে দূরে থাকুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভিডিও গেম খেলে শরীরে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। শিশুটি সবকিছু সম্পর্কে উত্তেজিত হয়। পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে পড়ে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, গেমিং এ আসক্ত মানুষ অন্য সব কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ ছাড়া কারও সঙ্গে মিশতে না পারা, ঘুম, খাওয়া-দাওয়াসহ নানা অনিয়ম রয়েছে। তাই আমাদের উচিত শিশুদের এই ধরনের খেলা থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখা।

অনেক শিশু কার্টুন না দেখে খেতে চায় না। তবে এই কার্টুন তাদের মানসিক গঠনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই তাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত। যেমন পোষা কবুতর, পাখি, মুরগি ইত্যাদিকে খাওয়ানোর চেষ্টা দেখানো যেতে পারে।

ধর্মীয় জ্ঞান শেখানো

ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা করা সকল মুসলমানের উপর ফরজ। তাই প্রতিদিনের ইবাদতের জন্য যতটুকু প্রয়োজন শিশুকে অন্তত ততটুকু ধর্মীয় জ্ঞান শেখানোর ব্যবস্থা করা দরকার। তাকে পবিত্রতা শেখাতে হবে, তাকে কুরআন শেখাতে হবে, তাকে প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল শেখাতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন পাপের ব্যাপারে তাকে আলতো করে সতর্ক করা পিতা-মাতার দায়িত্ব।

নামাজে অভ্যস্ত হও

শিশু শৈশব থেকে নামাজে অভ্যস্ত না হলে ভবিষ্যতে নামাজের যত্ন নিতে পারবে না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং তাদের ভালো কাজে অভ্যস্ত কর। কারণ কল্যাণ অভ্যাসের বিষয়। (সুনানে বায়হাকী, হাদিস : ৫০৯৪)

বই পড়তে উৎসাহিত করুন

বই শিশুদের সুপ্ত চিন্তা বিকাশে সাহায্য করে। শিশুরা গল্প শুনতে ভালোবাসে। তাদের বিভিন্ন নবীর গল্প শোনা যায়। শিশুদের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর ইসলামিক বই পাওয়া যায়। গল্পের বই পড়া শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করে এবং চিন্তা প্রকাশের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে শিশুরা সহজেই জটিল শব্দ ও বাক্য বুঝতে পারে। এতে তার পড়ার আগ্রহ যেমন বাড়ে, তেমনি শিশুর বুদ্ধিমত্তাও বাড়ে।