কিভাবে ওমরাহ করতে হয়

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২২

ওমরাহ শব্দের অর্থ সফর করা, দেখা করা এবং সাক্ষাৎ করা। পবিত্র কাবার তীর্থযাত্রা মূলত ওমরাহ।

ইসলামের ভাষায়, পবিত্র কাবা প্রদক্ষিণ সহ পবিত্র হজ্জের সময় ব্যতীত অন্য যে কোনও সময়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করাকে ওমরাহ বলা হয়। ওমরাহ পালনে প্রধান চারটি কাজ রয়েছে। দুটি জিনিস ফরয: (ক) ইহরাম পরিধান করা। (খ) পবিত্র কাবার প্রদক্ষিণ। আর দুটি জিনিস ওয়াজিব: (ক) সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার সায়ী (সবুজ আলো)। (খ) মাথার চুল কামানো বা ছোট করা।
এক. ইহরাম: ইহরাম বাঁধার আগে বেশ কিছু কাজ করতে হয়। এগুলো হলো: ইহরাম বাঁধার আগে সব ধরনের শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জন করতে হবে। যেমন হাত-পায়ের নখ কাটা, গোঁফ, চুল ও নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করা ইত্যাদি ইহরাম বাঁধার আগে গোসল করা সুন্নাত।

অতঃপর পুরুষকে কাপড় সেলাই না করে ইহরাম পরতে হবে এবং নারীদেরকে উপযুক্ত পোশাক পরতে হবে। ওমরাহর নিয়ত মিকাতে (ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট স্থান) বা তার আগে করতে হবে।

তারপর তালবিয়া পড়তে হবে। কেউ ইহরাম বাঁধতে চাইলে ফরজ গোসলের মতো গোসল করতে হবে। তারপর মাথায় বা দাড়িতে পারফিউম লাগান। গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহার করার পর ইহরামের কাপড় পরিধান করা। অতঃপর যখন ফরয নামাযের সময় হবে তখন সে ফরয নামায আদায় করবে।

ফরয নামাযের সময় না হলে অজুর সুন্নাত হিসেবে দুই রাকাত নামায পড়বে। নামাজের পর কিবলার দিকে মুখ করে ইহরাম বাঁধতে হবে। ইচ্ছা করলে গাড়িতে উঠে যাত্রার আগে ইহরাম বাঁধতে পারেন। তবে মক্কার উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগের পূর্বে ইহরাম বাঁধতে হবে। ইহরামের জন্য এই দোয়া পড়া যায়। উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল ওমরাতা ফা-ইয়াসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ, আমি ওমরাহ কামনা করি; তুমি আমার জন্য সহজ করে দাও এবং আমার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ কর। ‘

তারপর বলুন, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা উমরাতান/উমরাহ (অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনার দরবারে ওমরা পালনকারী হিসেবে হাজির হন)।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুরূপভাবে তালবিয়্যাহ পাঠ করলেন। সেই তালবিয়া হলো, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইকা। ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক। ‘

পুরুষরা উচ্চস্বরে তেলাওয়াত করবে। ওমরাহর ক্ষেত্রে ইহরামের শুরু থেকে তাওয়াফের শুরু পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করার বিধান রয়েছে। আপনি যখন তাওয়াফ শুরু করবেন, তখন আপনি তালবিয়া পড়া বন্ধ করবেন।

ইহরাম পরে কিছু কাজ হারাম। যেমন সেলাই করা কাপড় বা জুতা ব্যবহার নিষিদ্ধ। অনুরূপ মাথা এবং মুখ আবরণ. চুল কাটা বা ছিঁড়ে যাওয়া। পেরেক দেওয়া। সুগন্ধি তেল বা পারফিউম প্রয়োগ করা। স্ত্রী সহবাস। যৌন উত্তেজক কোনো আচরণ বা কথাবার্তা। শিকার করতে. ঝগড়া বা ঝগড়া করার জন্য চুল ও দাড়িতে আঙুল আঁচড়ানো বা নাড়ানো, যাতে ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শরীরে সাবান লাগানো। উকুন, পোকা, মশা ও মাছি সহ যে কোন প্রাণীকে হত্যা করা বা হত্যা করা। যেকোনো ধরনের পাপ করা।

দুই. তাওয়াফ: পবিত্র কাবাঘর সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলা হয়। ওমরাহর উদ্দেশ্যে তিনি ডান পা দিয়ে মসজিদে হারামে প্রবেশ করেন এবং এই দো‘আ পাঠ করেন: আউযু বিল্লাহিল আজিম ওয়া বি-ওয়াযহিহিল কারীম ওয়া সুলতানিহিল কাদিমি মিনাশ শাইতানির রাজিম। আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা। ‘

তারপর হাজরে আসওয়াদের দিকে তাওয়াফ শুরু করবেন। তিনি ডান হাতে হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ ও চুম্বন করবেন। হাজরে আসওয়াদের স্বাদ নিতে না পারলে তিনি তার হাত দিয়ে তাকে স্পর্শ করবেন এবং তার হাতে চুম্বন করবেন। যদি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে না পারে তাহলে আসওয়াদের দিকে হাত ইশারা করে তাকবীর বলবে। তবে হাতে চুমু দেবেন না।

তারপর ডানদিকে চালিয়ে যান। বায়তুল্লাহকে বাম দিকে রাখুন। যখন রুকন ইয়েমেনীতে পৌঁছাবে (হাজরে আসওয়াদের পর তৃতীয় কোণ) তখন চুম্বন ও তাকবীর ছাড়া শুধু কোণ স্পর্শ করবে। স্পর্শ করা সম্ভব না হলে প্রদক্ষিণ চলবে; ভিড় করবেন না।

তাওয়াফের সময় কাবা শরীফ ও হাজরে আসওয়াদকে বাম দিকে রেখে রোকনে শামী ও রোকনে ইরাকী অতিক্রম করে রোকনে ইয়েমেনে পৌঁছাবে। এ স্থানে তালবিয়া, তাকবীর তাসবিহ ইত্যাদি পাঠ করা হবে। তারপর (সম্ভব হলে) রোকনে ইয়েমেনীকে স্পর্শ করবে। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হবেন এবং কোরআনে শেখানো এই দোয়াটি ‘উচ্চারণ: ‘তিলাওয়াত হবে।

যখনই হাজরে আসওয়াদ পাশ দিয়ে যাবে তখন হাজরে আসওয়াদের দিকে তাকবীর বলবে। তাওয়াফের অন্য অংশে যা খুশি তাই জিকির, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত করা হবে। তাওয়াফে পুরুষদের দুটি কাজ করতে হয়।

1. তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইজতেবা। ইজতেবা মানে ডান কাঁধ খালি রেখে চাদরের মাঝখানের অংশ বগলের নিচে নিয়ে আসা এবং চাদরের দিকটি বাম কাঁধের উপর নিক্ষেপ করা। তাওয়াফ শেষ করার পর চাদর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। কারণ ইজতেবা শুধুমাত্র তাওয়াফে করতে হয়।

2. তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল। রমল মানে ছোট ছোট পদক্ষেপে দ্রুত হাঁটা। আর যেহেতু বাকি চার কোলে রমল নেই