তোষামোদ ইসলামের শিক্ষা নয়

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২২

সুবিধাবাদী, উচ্চাভিলাষী লোকেরা সবসময় প্রভাবশালীদের ঘিরে থাকে। রাজনীতির মাঠ, অফিস-আদালত, গ্রাম পঞ্চায়েত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ সব ক্ষেত্রেই প্রভাবশালীদের আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় এই ধরনের লোকদের।

এই লোকেরা খুব চালাক এবং বাগ্মী হয়। তাদের কাজ হলো প্রভাবশালীদের তেল মাখা, ভুল ব্যাখ্যা করা, সুযোগ পেলেই প্রভাবশালীদের সঙ্গে সেলফি তোলা এবং তাকে পুঁজি করে নানা অপরাধ করা।
তারা সব সময় প্রভাবশালীদের কাছে গিয়ে তাদের প্রশংসা করে নানা স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে। আর অন্যের নামে গসিপ গেয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। অনেক ক্ষেত্রে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের প্রশংসায় প্রতারিত হন এবং তাদের অপকর্মের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এজন্য আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে এ ধরনের লোক থেকে দূরে থাকতে বলেছেন।

পবিত্র কোরানে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি পার্থিব জীবনে একদল লোকের কথায় মুগ্ধ হবে এবং তারা আল্লাহকে অন্তরের কথার সাক্ষী হিসেবে পেশ করবে। আসলে সে খুব ঝগড়াটে মানুষ। (সূরা বাকারা, আয়াত: ২০৪)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ উম্মতের ব্যাপারে আমি যে বিষয়ে ভয় পাই তার মধ্যে একটি হল বাগ্মী মুনাফিক। (মুসনাদে আহমাদ : ১/২২)

এ কারণে সাহাবায়ে কেরাম এমন কোনো চাটুকারকে মিষ্টি কথায় প্রতারিত হতে দেননি। পক্ষান্তরে কেউ তাকে তোষামোদ করার চেষ্টা করলে তিনি সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর শেখানো পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নিতেন।

আবূ মামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন এক ব্যক্তি উঠে একজন প্রশাসকের সামনে তাঁর প্রশংসা করতে লাগলেন। মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা.) তার মুখে ধুলো ছুঁড়তেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে তোষামোদকারীর মুখে ধুলো ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিযী, হাদীসঃ ২৩৯৩)

সাহাবা কেরামের মতো নম্র ব্যক্তিরা কেন মিথ্যা প্রশংসাকারীদের সাথে এমন আচরণ করে তার কারণ হল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাহাবা কেরামকে সর্বদা সত্যবাদীদের সাথে থাকতে বলেছেন। আর মিথ্যাবাদী বলে ষড়যন্ত্রকারী থেকে দূরে থাক।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। (সূরা: তওবা, আয়াত: ১১৯)

উপরোক্ত আয়াতে মহান আল্লাহ মিথ্যাবাদীদের প্রত্যাখ্যান করতে বলেছেন কারণ মিথ্যাবাদীদের চাটুকারিতা মানুষের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি করে। স্বার্থপরতা একজনের নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণার দিকে পরিচালিত করে। এই পাপ অন্যকে তুচ্ছ করতে শেখায়। মানুষ তার স্বাভাবিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আত্মপ্রতারণার শিকার।

যে ব্যক্তি অহংকারী তার নিজের দোষ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না। এই দুষ্টতা মানুষকে সত্যের সন্ধান করতে বাধা দেয়। আত্ম-অহংকার সহজে সমালোচনা গ্রহণ করে না। তারা চাটুকারদের মিথ্যা দ্বারা প্রলুব্ধ হয়। চাটুকারদের কথায় প্রভাবিত হয়ে তারা নিরীহ মানুষের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে। অনেক সময় নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চাটুকারিতা পরিবার, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

এ জন্য রাসুল (সা.) তোষামোদকারীদের অভিশাপ দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অতিরিক্ত চাটুকাররা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, চাটুকারিতা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি জঘন্য কাজ। এটা মুনাফিকের অভ্যাস। তাই আমাদের সকলের উচিত এ ধরনের জঘন্য কাজ থেকে বিরত থাকা।