শীতে গাছে ঝুলছে অসময়ের পাকা আম

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২

গোমস্তাপুর(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শীত মৌসুমে আম বাগানে ঝুলছে বিভিন্ন জাতের পাকা আম ও ডালে ডালে মুকুলের সমারহ। গোমস্তাপুর উপজেলা পার্বতীপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের প্রত্যন্ত মাঠের একটি বাগানের এ দৃশ্য দেখা গেছে।

প্রথমে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করে আজ সফলতার মুখ দেখছেন অসময়ের (বারমাসি) আম উদ্যোক্তা সেরাজুল ইসলাম। তিনি ওই মাঠে ব্যক্তি মালিকাধীন ১২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে এ আম উৎপাদন শুরু করেছেন। পাকা আমসহ আমের চারা বিক্রি করছেন। সেখানে বারমাসী ম্যাংগো ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ওই বাগান থেকে তিনি বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। এ অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন হয়। অথচ আমের মৌসুম ছাড়া সারাবছর আম পাওয়া যায়না।

এ চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সেরাজুলের মাথায়। মানুষ কেন বারমাস সুস্বাধু আম খেতে পায়না। তাঁর এই উদ্বুদ্ধর কথা নিজ ভাই কমান্ডার রেজাউল করিমকে বলেন। ভাইয়ের পরামর্শ তিনি নিজ গ্রাম বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া এলাকায় একটি বাগান তৈরি করেন। ওই বাগানে একটি প্রজেক্ট উপস্থাপণ করি। সেই প্রজেক্টে পরীক্ষামূলকভাবে আম উৎপাদনে সফলতা অর্জন করি এবং ভালো একটা মুনাফা পায়। এরপর থেকে তাঁকে পেছনে তাকাতে হয়নি। পরবর্তীতে সেরাজুল উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে ১২ বিঘা লিজ নেন। ওই জমিতে ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রজেক্ট হিসেবে আম রুপালি জাতের আমগাছ থেকে সাইনিং শুরু করেন। পরে বারোমাসি বারি-১১ জাতের আম উৎপাদন হতে থাকে। তাঁর ওই বাগানে প্রায় দেড় হাজারে অধিক বিভিন্ন জাতের আমগাছ রয়েছে। ওই গাছগুলো থেকে বছরে তিন বার আম ধরেন বলে আম উদ্যাক্তা সেরাজুল ইসলাম বলেন। এখন তিনি সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা কেজি ধরে আম বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে সেরাজুল ইসরাম বলেন,দেশসহ বিশ্বে যেহেতু আমের পরিচিত রয়েছে, আম ফুরিয়ে গেলে অসময়ে আর আম পাওয়া যায়না তখন চিন্তা করেছি সবসময়। কিভাবে অসময়ে আম পাওয়া যাবে। এ চিন্তা থেকে বিভিন্ন স্থানে জাত সংগ্রহ করতে থাকি। কিন্তু সে জাতগুলো ভালো না। খোঁজ করতে করতে ঢাকা থেকে এ জাত সংগ্রহ করি। তাঁরপর পরিকল্পনা করি। সফল হয়েছি। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪ লাখ টাকার আম বিক্রি করা হয়েছিল। এ সফলতা থেকে তিনি উপজেলার মহেষপুর গ্রাম এলাকায় ব্যক্তি মালিকের ১২ বিঘা জমি লিজ নেওয়া হয়। সেখানে তিনি অসময়ে আম উৎপাদন শুরু করেন। প্রজেক্ট হিসেবে কাজ শুরু করে এখন সফলতার মুখ দেখছেন। তাঁর ওই বাগানে আছে, বারি- ১১,কাটিমন, বানানা ম্যাংগো,গৌরমতি,বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি, খিরসাপাত, আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে।

এছাড়া অসময়ে আমের জন্য অন্যজাতের আম পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, নিজেরসহ এলাকার লোকজনের কাজের কর্মস্থান হয়েছে। বাগান থেকে বিঘা প্রতি তিন লাখ টাক মিনিমাম আম বিক্রি উৎপাদন হবে। এর চাইতে অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন। তিনি ধারণা করছেন তাঁর জীবনের একটা মোর ঘুরে যাবে। এদিকে সফল উদ্যোক্তা সেরাজুল ইসলামের সম্ভাবনায় আম উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এলাকায়, তিনি সরকারি প্রণোদনা পেলে বেশি বেশি আম উৎপাদন করে বাংলাদেশ তথা বিশ্বে রপ্তানি করে দেশ ও বিদেশের মানুষকে অসময়ে আমের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি জানান।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, কয়েকমাস আগে সেরাজুল ইসলামের বাগান পরিদর্শন যায়। তাঁকে বাগান পরিচর্যার বিষয়ে অনেক রকম পরামর্শ দেয়া হয়েছে । অসময়ে এতো বড় বারমাসি বাগানের আম চাষী ও নতুন উদ্যোক্তা সেরাজুল ইসলামের লক্ষ্যমাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাকে প্রয়োজনীয় যতটুকু সাহায্য সহযোগিতা সম্ভব তা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়া তার বাগানের প্রজেক্ট বৃদ্ধি বা অন্যান্য বিষয়ে সর্ব্যক্ত সহযোগিতা করে যাবে।