ডিজিটাল বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড নীতিমালা সম্পন্ন হয়েছে

Desk Reporter
Desk Reporter
প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২১

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড পলিসি-২০২১’ প্রণয়ন করেছে।

জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ২৪টি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হবে।

জাতীয় পর্যায়ে একজন পাবেন দুই লাখ টাকা, দলের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা এবং জেলা পর্যায়ে একজন পাবেন এক লাখ টাকা এবং দলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। উভয় ক্ষেত্রেই ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র এবং দলকে ল্যাপটপ দেওয়া হবে।

নীতিমালার দায়িত্বে থাকা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রেজাউল মকসুদ জাহেদী বাংলানিউজকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে উদ্ভাবনী কাজকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হচ্ছে। যাতে জনগণ সরকারি-বেসরকারি এবং ব্যক্তি পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হয়।

এর আগে চারবার পুরস্কার দেওয়া হলেও মাকসুদ জাহেদী বলেন, পুরস্কার দেওয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করা হয়েছে।

আইসিটি বিভাগ থেকে নীতিমালার খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পর তা চূড়ান্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

নীতিগত পটভূমি অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি,২০০৮ ডিসেম্বর ১২ তারিখে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেন। রূপকল্প-২০২১ ঘোষণার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করে বাংলাদেশকে র‍্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত করার আশায়। উন্নত বিশ্বের সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাকে স্মরণীয় করে রাখতে ১২ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে সরকার ১২ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস’-এর পরিবর্তে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

উদ্দেশ্য: নীতিতে বলা হয়েছে যে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং সংস্থাকে অনুপ্রেরণা, উত্সাহ এবং স্বীকৃতি প্রদানের জন্য বিভিন্ন বিভাগে সেরা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং সংস্থাকে পুরস্কৃত করা।

পুরস্কারের ক্ষেত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সাধারণ এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হবে।

সাধারণ ক্যাটাগরিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখা; কেন্দ্রীয়/মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশ মিশনে ই-পরিষেবা বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন।

প্রযুক্তিগত বিভাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সফটওয়্যার/হার্ডওয়্যার/নেটওয়ার্ক উন্নয়ন; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা (সাইবার নিরাপত্তা) নিশ্চিত করা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি আনতে সীমান্ত/উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার।

পুরস্কারের শ্রেণীবিভাগ: জাতীয় পর্যায়ে (সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ছয়টি করে মোট ১২টি পুরস্কার) দেওয়া হবে। সাধারণ ও কারিগরি দুটি আলাদা বিভাগে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৃথকভাবে সেরা ব্যক্তি, সেরা দল এবং সেরা প্রতিষ্ঠানের তিনটি বিভাগে মোট ১২টি পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ক্রেস্ট, সনদপত্র, নগদ টাকা।

ব্যক্তিগত অবদানের ক্ষেত্রে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। দলের অবদানের ক্ষেত্রে, দলের সকল সদস্যকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা হারে একটি ক্রেস্ট, সম্মানী এবং নগদ সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হবে। দলে পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকলে পাঁচ লাখ টাকা সমানভাবে বিতরণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ ও একটি ল্যাপটপ দেওয়া হবে।
জেলা পর্যায়ে (সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ছয়টি করে মোট ১২টি পুরস্কার) দেওয়া হবে। তিনটি বিভাগে মোট ১২টি পুরস্কার দেওয়া হবে, যথা: সেরা ব্যক্তি, সেরা দল এবং সেরা প্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৃথকভাবে দুটি সাধারণ ও প্রযুক্তিগত বিভাগে (জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্তরা ব্যতীত)। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, নগদ টাকা। ব্যক্তিগত অবদানের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ক্রেস্ট, সম্মানী ও নগদ এক লাখ টাকা দেওয়া হবে। দলের অবদানের ক্ষেত্রে, দলের সকল সদস্যকে একটি ক্রেস্ট, সম্মানী এবং সর্বোচ্চ ৫০০০০ টাকা দেওয়া হবে।৫০০০০ টাকা হারে জনপ্রতি। দলে পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকলে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা সমানভাবে বিতরণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ ও একটি ল্যাপটপ দেওয়া হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাজেটে পুরস্কার প্রদানের ব্যয় বরাদ্দ করা হবে।

বাস্তবায়নের সময়সূচী: পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ক্যালেন্ডার বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) কার্যক্রম বিবেচনা করা হবে। এক্ষেত্রে ৫ আগস্ট থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ১২ ডিসেম্বর পুরস্কার দেওয়া হবে।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া: প্রাথমিক মনোনয়নের প্রস্তাবগুলো ব্যক্তি, দল ও সংস্থার মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেলা নির্বাচন কমিটিতে প্রেরণ করতে হবে এবং বেসরকারি পর্যায়ে ব্যক্তি, দল ও সংগঠনকে সরাসরি জেলা নির্বাচন কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরীতে অবস্থিত বেসরকারি ব্যক্তি, দল ও সংগঠন জেলা নির্বাচন কমিটি, ঢাকা বা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিতে মনোনয়নের জন্য প্রাথমিক প্রস্তাব পাঠাতে পারবে।

মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সরকারি বিভাগ/দপ্তর/সংস্থা/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও সংস্থার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, দল ও সংগঠন শ্রেণীর মনোনয়নের প্রাথমিক প্রস্তাব কেন্দ্রীয় বাছাই কমিটিতে পাঠাতে হবে।

বাছাই কমিটি: জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে চেয়ারম্যান করে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সভাপতিত্ব করবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী। কমিটিতে নয় সদস্য রয়েছে।

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা (একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি) এবং ওয়েব পোর্টালে মনোনয়ন/আবেদনপত্র আমন্ত্রণ করে পুরস্কারের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

পুরস্কার প্রদানের পদ্ধতি অনুসরণ করুন: জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির দ্বারা নির্বাচিত তালিকা বিবেচনা করবে এবং অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে।

বাস্তবায়ন: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড নীতি-২০২১’ বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

পুরস্কার প্রকল্পে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে: মনোনয়নপত্রে তথ্য অসম্পূর্ণ বা অসত্য বা অস্পষ্ট হলে এবং নমুনা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রমাণ না থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। এই পুরস্কারের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। কোনো বিভাগে কাঙ্খিত মানের কোনো অফার না পাওয়া গেলে, পুরস্কার সেই বিভাগে বিবেচনা করা হবে না।